একটি গার্মেন্টে অচল মহাসড়ক!
একটি গার্মেন্টের কারণে দেশের প্রধান একটি মহাসড়ক দিনে প্রায় চার ঘণ্টা অচল থাকে। এই কথা শুনে হয়তো অবাক হতে পারেন যে, গার্মেন্টের কারণে একটি মহাসড়ক কীভাবে অচল হয়? হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তবতা।
ঢাকার ব্যস্ততম উপজেলা সাভারের উলাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত আল মুসলিম গার্মেন্ট। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই গার্মেন্টে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী কাজ করে। এসব কর্মীর কাজে যাওয়ার সময় এবং কাজ শেষে গার্মেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় দেশের উত্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়।
এটিকে এখন সাভারের দুঃখ বলেই অভিহিত করছেন মহাসড়কে চলাচলকারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা আহমেদ কবির অফিসের প্রয়োজনে প্রতিদিন রাজধানীতে আসা-যাওয়া করেন। সকাল এবং সন্ধ্যা- এই দুই সময়েই তিনি উলাইলের এই জ্যামে পড়েন। তবে সন্ধ্যার জ্যাম কোনোভাবে এড়াতে পারলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। বলেন, ‘পাঁচটার পর অফিস ছুটি হয়। মতিঝিল থেকে এখানে আসতে বেশির ভাগ দিনই সাড়ে সাতটার মতো বেঁজে যায়। তখন এই এলাকা পার হতে আধা ঘণ্টার মতো লাগে। যদি কোনোদিন একটু আগে আসতে পারি ওইদিন নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই গার্মেন্টে সকালে দুই শিফটে কর্মীরা প্রবেশ করে এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তিন শিফটে কাজ শেষে বের হয়। এর মধ্যে সকাল সাতটা ও আটটায় কর্মীরা কাজে প্রবেশ করেন। আর বিকেল পাঁচটা, রাত আটটা এবং রাত সাড়ে নয়টা- এই তিন শিফটে কাজ শেষে বের হন। এই পাঁচ সময়ে দেশের ৪০টি জেলার প্রায় সব যানবাহনকে উলাইল এলাকায় এসে আটকে থাকতে হয়। বিশেষ করে গার্মেন্টসে যে তিন শিফটে ছুটি হয় ওই সময়ে যানজট মহাসড়কের উভয় পাশে কখনো কখনো দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত চলে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গার্মেন্টস যখন ছুটি হয় তখন গার্মেন্টসের নিরাপত্তা কর্মীরা মহাসড়কে ফিতা ধরে অথবা লাল পতাকা দেখিয়ে যানবাহন আটকে কর্মীদের সড়ক পার করে দেয়। প্রতিবার ছুটির সময় কয়েক দফায় তারা এই পদ্ধতিতে যানবাহন আটকে রাখে। আবার এইসব কর্মীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে প্রায় অর্ধশত গাড়ি সিরিয়াল দিয়ে গার্মেন্টেসের এর অপর পাশের লেনে (ঢাকা থেকে সাভারমুখী) দাঁড়িয়ে থাকে।
এটিকে এখন সাভারের দুঃখ বলেই অভিহিত করছেন মহাসড়কে চলাচলকারী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা আহমেদ কবির অফিসের প্রয়োজনে প্রতিদিন রাজধানীতে আসা-যাওয়া করেন। সকাল এবং সন্ধ্যা- এই দুই সময়েই তিনি উলাইলের এই জ্যামে পড়েন। তবে সন্ধ্যার জ্যাম কোনোভাবে এড়াতে পারলে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। বলেন, ‘পাঁচটার পর অফিস ছুটি হয়। মতিঝিল থেকে এখানে আসতে বেশির ভাগ দিনই সাড়ে সাতটার মতো বেঁজে যায়। তখন এই এলাকা পার হতে আধা ঘণ্টার মতো লাগে। যদি কোনোদিন একটু আগে আসতে পারি ওইদিন নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই গার্মেন্টে সকালে দুই শিফটে কর্মীরা প্রবেশ করে এবং বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তিন শিফটে কাজ শেষে বের হয়। এর মধ্যে সকাল সাতটা ও আটটায় কর্মীরা কাজে প্রবেশ করেন। আর বিকেল পাঁচটা, রাত আটটা এবং রাত সাড়ে নয়টা- এই তিন শিফটে কাজ শেষে বের হন। এই পাঁচ সময়ে দেশের ৪০টি জেলার প্রায় সব যানবাহনকে উলাইল এলাকায় এসে আটকে থাকতে হয়। বিশেষ করে গার্মেন্টসে যে তিন শিফটে ছুটি হয় ওই সময়ে যানজট মহাসড়কের উভয় পাশে কখনো কখনো দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত চলে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গার্মেন্টস যখন ছুটি হয় তখন গার্মেন্টসের নিরাপত্তা কর্মীরা মহাসড়কে ফিতা ধরে অথবা লাল পতাকা দেখিয়ে যানবাহন আটকে কর্মীদের সড়ক পার করে দেয়। প্রতিবার ছুটির সময় কয়েক দফায় তারা এই পদ্ধতিতে যানবাহন আটকে রাখে। আবার এইসব কর্মীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে প্রায় অর্ধশত গাড়ি সিরিয়াল দিয়ে গার্মেন্টেসের এর অপর পাশের লেনে (ঢাকা থেকে সাভারমুখী) দাঁড়িয়ে থাকে।
এই গাড়িগুলো মহাসড়কে দাঁড়ানোর জন্য উলাইলে ইউটার্ন নেয়। গার্মেন্টেস ছুটির প্রায় আধা ঘণ্টা আগে থেকে এখানে ইউটার্ন নেওয়ার চাপ বেড়ে যায়। আবার ছুটি শেষে গার্মেন্টসের সব কর্মী ধাপে ধাপে বের হয়। এতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ফলে তাদের বহনকারী গাড়িগুলোও একদম শেষ পর্যন্ত মহাসড়কের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে।
ফলে ছুটির আগে-পরে মিলিয়ে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা এই মহাসড়ক অচল হয়ে পড়ে। সবমিলে দিনে যা প্রায় চার ঘণ্টা।
চন্দ্রা থেকে মিরপুর রুটে বাস চালান মো. ইমরান। প্রতিদিন তিনি একবার হলেও এই গার্মেন্টের জ্যামে পড়েন। রোববার বিকেলে তিনি বাস নিয়ে উলাইল এলাকায় জ্যামে আটকে ছিলেন। পরিচয় দিয়ে কথা বলা শুরু করতেই ক্ষোভ ঝরা কণ্ঠে বলেন, ‘আধা ঘণ্টার বেশি হইছে এইহানে বইয়া আছি। প্রতিদিন একবার-দুবার এই হানে জামে পড়ি। একটা ওভারব্রিজ কইরা দিলেই পারে। হ্যাগো (আল মুসলিম গ্রুপ) তো আর ট্যাহার অভাব নাই। তাইলেই আর আমাগো বইয়া থাকতে হয় না।’
তবে মহাসড়কের এই জ্যামের পুরো দায় নিজেদের কাঁধে নিতে নারাজ আল মুসলিম গ্রুপ। এই গার্মেন্টের সিকিউরিটি ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা ফরহাদ জানান, শুধু তাদের কর্মীদের রাস্তা পারাপারের জন্য জ্যাম লাগে না। গাড়িগুলো যে ইউটার্ন নেওয়াও জ্যামের অন্যতম কারণ। তবে, ইউটার্ন নেওয়া গাড়িগুলো তো তাদের কর্মীদেরই বহন করে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওইসব বাইরের গাড়ি, এর দায় তারা নেবেন না।
এমনকি আল মুসলিমের সামনে ফুট ওভারব্রিজ করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে সড়ক ও জনপথসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নাকি চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তেমন সাড়া মিলছে না বলেও অভিযোগ করেন ফরহাদ।
তবে, আল মুসলিম গ্রুপের এমন অভিযোগ শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের (ঢাকা সড়ক বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আর মামুন। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘একটি মহাসড়কের পাশে কীভাবে এত বড় একটি গার্মেন্ট হয় সেটাই আমার মাথায় আসে না। আবার তাদের সব গাড়ি মহাসড়কের ওপর রাখা হয়, আমাদের কোনো কথাই তারা শোনে না।’
তিনি জানান, মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে ফুট ওভারব্রিজ করা হবে। তখন কোনো গাড়িই মহাসড়কের ওপর দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিষয়টি নিয়ে কথা তুলতেই বেশ বিব্রতকর অবস্থায় আছেন বলে জানান সাভার পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুল গণি। বিষয়টির সমাধান করতে জেলা পরিষদের সভায় একাধিকবার উত্থাপন করা হলেও তেমন ফলাফল আসেনি। আবার গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষও মাথা ঘামাতে নারাজ। বলেন, ‘তাদের ভেতরে অনেক জায়গা আছে, তারা চাইলেই গাড়িগুলোকে ভেতরে রাখতে পারে, কিন্তু সেটি তারা করছে না। আবার নিজেরা ওভারব্রিজও করছে না।’
ফলে ছুটির আগে-পরে মিলিয়ে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা এই মহাসড়ক অচল হয়ে পড়ে। সবমিলে দিনে যা প্রায় চার ঘণ্টা।
চন্দ্রা থেকে মিরপুর রুটে বাস চালান মো. ইমরান। প্রতিদিন তিনি একবার হলেও এই গার্মেন্টের জ্যামে পড়েন। রোববার বিকেলে তিনি বাস নিয়ে উলাইল এলাকায় জ্যামে আটকে ছিলেন। পরিচয় দিয়ে কথা বলা শুরু করতেই ক্ষোভ ঝরা কণ্ঠে বলেন, ‘আধা ঘণ্টার বেশি হইছে এইহানে বইয়া আছি। প্রতিদিন একবার-দুবার এই হানে জামে পড়ি। একটা ওভারব্রিজ কইরা দিলেই পারে। হ্যাগো (আল মুসলিম গ্রুপ) তো আর ট্যাহার অভাব নাই। তাইলেই আর আমাগো বইয়া থাকতে হয় না।’
তবে মহাসড়কের এই জ্যামের পুরো দায় নিজেদের কাঁধে নিতে নারাজ আল মুসলিম গ্রুপ। এই গার্মেন্টের সিকিউরিটি ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা ফরহাদ জানান, শুধু তাদের কর্মীদের রাস্তা পারাপারের জন্য জ্যাম লাগে না। গাড়িগুলো যে ইউটার্ন নেওয়াও জ্যামের অন্যতম কারণ। তবে, ইউটার্ন নেওয়া গাড়িগুলো তো তাদের কর্মীদেরই বহন করে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওইসব বাইরের গাড়ি, এর দায় তারা নেবেন না।
এমনকি আল মুসলিমের সামনে ফুট ওভারব্রিজ করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে সড়ক ও জনপথসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নাকি চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তেমন সাড়া মিলছে না বলেও অভিযোগ করেন ফরহাদ।
তবে, আল মুসলিম গ্রুপের এমন অভিযোগ শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের (ঢাকা সড়ক বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আর মামুন। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘একটি মহাসড়কের পাশে কীভাবে এত বড় একটি গার্মেন্ট হয় সেটাই আমার মাথায় আসে না। আবার তাদের সব গাড়ি মহাসড়কের ওপর রাখা হয়, আমাদের কোনো কথাই তারা শোনে না।’
তিনি জানান, মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে ফুট ওভারব্রিজ করা হবে। তখন কোনো গাড়িই মহাসড়কের ওপর দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিষয়টি নিয়ে কথা তুলতেই বেশ বিব্রতকর অবস্থায় আছেন বলে জানান সাভার পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুল গণি। বিষয়টির সমাধান করতে জেলা পরিষদের সভায় একাধিকবার উত্থাপন করা হলেও তেমন ফলাফল আসেনি। আবার গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষও মাথা ঘামাতে নারাজ। বলেন, ‘তাদের ভেতরে অনেক জায়গা আছে, তারা চাইলেই গাড়িগুলোকে ভেতরে রাখতে পারে, কিন্তু সেটি তারা করছে না। আবার নিজেরা ওভারব্রিজও করছে না।’


0 Comments